অন পেজ এসইও কি ? কিভাবে অন পেজ এসইও করবো

অন পেজ এসইও কি

অন পেজ এসইও একটি ওয়েবসইটের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ন। কারন কোনো ওয়েবসইটকে গুগলে খোজে পেতে হলে তাকে অনপেজ এসইও অবশ্যই করতে হবে। এছাড়া গুগলের প্রথম পেজে আসতে হলে টেকনিক্যাল এসইও ও অফপেজ এসইও করতে হবে। এসইও ক্ষেত্রে তিনটি স্টেজ খুবই প্রয়োজন। তা হলো এক- অনপেজ এসইও, দুই- অফপেজ এসইও, তিন- টেকনিক্যাল এসইও। এই তিনটি পদ্ধতি অবলম্বন করে এসইও কাজ গুলি সঠিক ভাবে করতে পারলে যে কোন কিওয়ার্ড বা ওয়েবসাইটকে গুগলের ফাস্ট পজিশনে আনা সম্ভব। তাই আমরা এই তিনটি পদ্ধতি সঠিক ভাবে ইউটিলাইজ করে কিওয়ার্ড র‌্যান্কিং করবো। আজকে আমাদের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে অন পেজ এসইও কি এবং কিভাবে অনপেজ এসইও করবো। এ সম্পর্কে জানতে হলে আজকের আর্টিকেল মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে আশা করি অনপেজ এসইও সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন।

এসইও কি :

এসইও এভরিভেশন হচ্ছে সার্চ ইন্জিন অপটিমইজেশন। প্রতিটি সার্চ ইন্জিনের নিজস্ব বট আছে। তারা প্রতিটি কিওয়ার্ড বা কন্টেন্টকে এনালাইস করে থাকে এবং র‌্যান্কিং পজিশন নির্ধরন করে থাকে। যখন কোন ব্যক্তি কোন কিওয়ার্ড লিখে সার্চ করে থাকে তখন গুগল বট তা খোজে বের করে থাকে। সেটা কিসের মাধ্যমে সম্ভব হয়, একমাত্র এসইও করার ফলে সম্ভব হয়। তাই কোন কিওয়ার্ড বা কন্টেন্টকে খোজে পেতে হলে অবশ্যই এসইও করতে হবে। তাহলে সবাই সে কিওয়ার্ড বা কন্টেন্টকে খোজে পাবে।

অন পেজ এসইও কি :

অনপেজ এসইও হচ্ছে কোনো ওয়েবসাইটের ভিতরে যে কাজ গুলো করা হয়ে থাকে, তাকে অনপেজ এসইও করা বলা হয়ে থাকে। একটি ওয়েবসাইটে স্ট্রাকচার কেমন হবে, তার কোন টপিক কোথায় থাকবে, ইমেজ কোথায় থাকবে, ইউ আর এল কেমন হবে ইত্যাদি আভ্যন্তরিন কাজ গুলো অনপেজ এসইও এর মাধ্যমে করা হয়ে থাকে।

অফপেজ এসইও কি :

অফপেজ এসইও হচ্ছে কোনো ওয়েবসাইটের বাহিরে যে কাজ গুলো করা হয়ে থাকে তাকে অফপেজ এসইও করা বলা হয়ে থাকে। অফপেজ এসইও করা বলতে ব্যাকলিংক বা লিংকবিল্ডিং করাকে বোঝায়। ব্যাকলিংক হচ্ছে কোন ওয়েবসাইটে গিয়ে রিইলেভেন মন্তব্য করে সেখানে নিজের সাইটের ইউ আর এল বসিয়ে সাবমিট করাই হচ্ছে ব্যাকলিংক করা । আর এই ধরনের ব্যাকলিংক বা লিংকবিল্ডিং করা অফপেজ এসইও এর অন্তর্ভূক্ত হয়ে থাকে।

অনপেজ এসইও এবং অফপেজ এসইও মধ্যে পার্থক্য কি :

অনপেজ এসইও এবং অফপেজ এসইও মধ্যে পার্থক্য সহজেই অনুমান করা যায় যে, একটি ওয়েবসাইটে অভ্যন্তরে যে কাজ গুলো করা হয় তাকে অনপেজ এসইও করা বলা হয়ে থাকে। আর ওয়েবসাইটের বাহিঃভাগে যে কাজ গুলো করা হয়ে থাকে তাকে অফপেজ এসইও করা বলা হয়ে থাকে। মোটকথা অন পেজ এসইও কি এর ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট গুগলে ইনডেক্স করা, সাইট ম্যাপ সেটাপ করা, পারমালিংক সেটাপ করা, কন্টেন্টকে সঠিক ভাবে অপটিমাইজ করাই হচ্ছে অনপেজ এসইও করা। আর অফপেজ এসইও কি এর ক্ষেত্রে যত রকমের ব্যাকলিংক বা লিংকবিল্ডিং রয়েছে সে গুলো করতে হবে। যেমন: সোসাল মিডিয়া ব্যাকলিংক, ব্লগ কমেন্টিং, গেস্ট পোস্টিং, বুকমার্কিং, প্রোফাইল ব্যাকলিংক, ডিরেক্টরি সাবমিশন ইত্যাদি লিংকবিল্ডিং করাই হচ্ছে অফেপেজ এসইও করা।

অন পেজ এসইও চেকলিস্ট :

  1. ইউ আর এল অপটিমাইজেশন
  2. টাইটেল অপটিমাইজেশন
  3. ম্যাটা ডিসক্রেপশন
  4. ইমেজ অল্টার ট্যাগ
  5. হেডার ট্যাগ
  6. ক্যাননিক্যাল ট্যাগ অপটিমাইজেশন
  7. কিওয়ার্ড ডেনসিটি
  8. ইন্টারন্যাল লিংকিং
  9. এক্সটার্নাল লিংকিং
  10. কন্টেন্ট অপটিমাইজেশন

কিভাবে অন পেজ এসইও করবো :

অনপেজ এসইও এর ক্ষেত্রে উপরের চেকলিস্ট ফলো করে এসইও করলে আপনার অনপেজ এসইও করা সম্পূর্ন হয়ে যাবে। নিজেকে অনপেজ এসইও কনসালটেন্ট হিসাবে দাবি করতে পারবেন। তবে চেকলিস্ট গুলো সটিক ভাবে এপলাই করতে হবে। চেকলিস্ট অনুযায়ী কিভাবে কাজ করবেন নিচে বিস্তারিত ভাবে তুলে ধরার চেষ্ট করা হলো।

1. ইউ আর এল অপটিমাইজেশন করা :

ইউ আর এল হচ্ছে একটি কন্টেন্টের লিংক কে ইউ আর এল বলা হয়ে থাকে। ইউ আর এল সংক্ষিপ্ত হওয়া ভালো। তবে ডাবলিও ডাবলিও ডাবলিও সহ ডোমেন লিখে অবলিগ দিয়ে কিওয়ার্ড থাকতে হবে। অর্থাৎ www.domin.com/keyword. এই নমুনা হিসাবে লিংক সেটাপ করা ভালো।

2. টাইটেল অপটিমাইজেশন করা :

টাইটেল অপটিমইজেশন একটি গুরুত্বপূর্ন ফ্যাক্টর। টাইটেল যত সুন্দর হবে ভিজিটর ততো আকৃষ্ট হবে। টাইটেল আপনার 60 থেকে 70 ক্যারেক্টারের মধ্যে হতে হবে। আর টাইটেলে অবশ্যই আপনার টার্গেটেড কিওয়ার্ড থাকতে হবে।

3. ম্যাটা ডিসক্রেপশন তৈরি করা :

ম্যাটা ডিসক্রেপশন হচ্ছে আপনার কন্টেন্টের সারাংশ। ম্যাটা ডিসক্রেপশন এমন ভাবে তৈরি করতে হবে যাতে আপনার কন্টেন্টের মূল বক্তব্য ফুটে উঠে। তবে ম্যাটা ডিসক্রেপশন 150 থেকে 160 ক্যারেক্টারের মধ্যে হওয়া উচিত। এর বেশি হলে গুগলের নিকট গ্রহনযোগ্যতা পাবে না। ম্যাটা ডিসক্রেপশনে টার্গেটেড কিওয়ার্ড থাকা বাঞ্চনীয়।

4. ইমেজ অল্টার ট্যাগ দেওয়া :

আপনার কন্টেন্টের মাঝে অবশ্যই ইমেজ সেটাপ করতে হবে। তাতে আপনার কন্টেন্ট ফুটে উঠবে এবং প্রানবন্ত হয়ে উঠবে। তবে ইমেজে আল্টার ট্যাগ অবশ্যই সেটাপ করতে হবে। আল্টার ট্যাগে আপনার টার্গেটেড কিওয়ার্ড থাকতে হবে।

5. হেডার ট্যাগ বসাতে হবে :

হেডার ট্যাগ হচ্ছে প্রতিটি প্যারার উপরে যে নাম দেওয়া হয় তাকে হেডার ট্যাগ বলা হয়। হেডার ট্যাগে টার্গেটেড কিওয়ার্ড এবং রিইলেভেন কিওয়ার্ড থাকা ভালো। হেডার ট্যাগ 6 ধরনের হয়ে থাকে। যেমন : H1, H2, H3, H4, H5, H6 । প্যারার ধরনের উপর ভিত্তি করে এই ধরনের ট্যাগ বসাতে হবে। তবে একটি কন্টেন্টে H1 ট্যাগ একটিই থাকে, তা হলো টাইলটেল ট্যাগ। অন্য ট্যাগ গুলো প্রয়োজন মতো যত ইচ্ছা বসাতে পারেন । তবে বাহুল্যতা প্রদর্শন করা যাবে না।

6. ক্যাননিক্যাল ট্যাগ অপটিমাইজেশন :

ক্যাননিক্যাল ট্যাগ হচ্ছে একই ধরনের কন্টেন্ট যাতে দুই বার না হয়ে থাকে তাকে ফাইন্ড আউট করার জন্য ক্যাননিক্যাট ট্যাগ বসাতে হয়। ধরুন, একই ধরনের আর্টিকেল দুটি রয়েছে বা একই ধরনের প্রোডাক্ট দুটি রয়েছে। গুগল কোনটিকে ইনডেক্স করবে বুঝতে পারছে না। তখন আপনাকে ক্যাননিক্যাল ট্যাগ সেটাপ করে দিতে হবে। সেটা কিভবে করবেন ? এর জন্য ইওস্ট এস ই ও প্লাগিন ইনষ্টল করতে হবে। ইওস্ট এসইও প্লাগিনে গিয়ে এডভ্যান্স সেটিং থেকে আপনি যে কন্টেন্ট কে ইনডেক্স করতে চান সে কন্টেন্টের লিংক বসিয়ে দিতে হবে।

7. কিওয়ার্ড ডেনসিটি নির্ধারন করা :

কিওয়ার্ড ডেনসিটি হচ্ছে আপনি যে আর্টিকেল লিখবেন তার অনুপাতে ফোকাস কিওয়ার্ড নির্ধারন করতে হবে। অর্থাৎ আপনার আর্টিকেল যদি এক হাজার ওয়ার্ডের হয় তাহলে 5/6 বার ফোকাস কিওয়ার্ড রাখা ভালো। গুগলের নিয়ম অনুযায়ী ফোকাস কিওয়ার্ড 3% থাকতে হবে। তবে এক থেকে দেড় পারেসেন্ট হলেও চলবে। ইওস্ট এসইও প্লাগিনের মাধ্যমে আর্টিকেল লিখলে প্লাগিনই নির্ধারন করে দিবে কতটি ফোকাস কিওয়ার্ড রাখতে হবে।

8. ইন্টারন্যাল লিংক সেট করা :

ইন্টারন্যাল লিংক হচ্ছে নিজের ওয়েবসাইটের কোন লিংক আর্টিকেলের মধ্যে সেট করে দিতে হবে। তাহলে ভিজিটর এক আর্টিকেল থেকে অন্য আর্টিকেলে যেতে পারবে। তাতে আপনার সাইটের স্পাম্প স্কোর বৃদ্ধি পাবে না। গুগলের নিয়ম অনুযায়ী ইন্টারন্যাল লিংক সেট করতে হবে।

9. এক্সটারন্যাল লিংক সেট করা :

এক্সটারন্যাল লিংক হচ্ছে আপনার সাইট রিলেটেড অন্য কোন সাইটের লিংক আপনার ওয়েবসাইটের মধ্যে সেট করে দিতে হবে। এতে আপনার সাইটের সাথে অন্য কোন সাইটের জুস পাস হবে। অর্থাৎ এক সাইট থেকে অন্য সাইটে ভিজিটর আসা যাওয়া করতে পারবে। তাতে উভয় সাইট উপকৃত হবে।

10. কন্টেন্ট অপটিমাইজেশন করা :

কন্টেন্ট অপটিমাইজেশন হচ্ছে কন্টেন্টের লেনথ ঠিক রাখা। গুগলের রোল অনুযায়ী কন্টেন্টের লেনথ কমপেক্ষে 300 শব্দের হতে হবে। যাতে কোন টপিক সঠিক ভাবে ফুঠিয়ে উঠে। তবে কোন কন্টেন্ট 300 শব্দের মধ্যে সটিক ভাবে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব না। তাই নুন্যতম 500 শব্দের হওয়া উচিত। তবে 1000 শব্দের হলে ভালো। তার উপরে যত শব্দের লিখতে পারেন ততো ভালো। তবে গুগলের প্রথম পেজে আসতে হলে 1500 থেকে 2000 শব্দের আর্টিকেল লিখতে পারলে ভালো হয়। সর্বপরি একটি কন্টেন্টকে ভালো ভাবে ফুটিয়ে তুলতে যত শব্দের প্রয়োজন সে অনুযায়ী কন্টেন্ট লিখা বাঞ্চনীয়। এছাড়া একটি কন্টেন্টের সার্বিক নিয়ম ফলো করে কোন কন্টেন্ট লিখতে হবে।

আরো পড়ুন :

কিভাবে অফপেজ এসইও করবেন

কিভাবে টেকনিক্যাল এসইও করবেন

শেষ কথা :

পরিশেষে কথা হচ্ছে অন পেজ এসইও কি ? এ সম্পর্কে জানতে হলে উপরের চেকলিস্ট ফলো করে একটি কিওয়ার্ড নিয়ে কন্টেন্ট লিখতে হবে। সে কিওয়ার্ড কে অফপেজ এসইও করতে হবে।তাহলে খুব দ্রুত গুগলে র্যান্ক করবে। কিওয়ার্ড কে গুগলে র‌্যান্ক করতে হলে প্রথমে অনপেজ এসইও করতে হবে। তারপর অফপেজ এসইও করতে হবে। পাশাপাশি ট্যাকনিক্যাল এসইও ঠিক রাখতে হবে। তবেই দ্রুত কিওয়ার্ড গুগলের প্রথম পাতায় আসা সম্ভব। তাই একজন এসইও কনসালটেন্ট বা এসইও এক্সপার্ট হতে হলে সটিক ভাবে অনপেজ এসইও সম্পর্কে জানতে হবে। মোটকথা উপরের চেকলিস্ট অনুযায়ী কোন কিওয়ার্ড কে অনপেজ এসইও করতে পারলে সে কিওয়ার্ড গুগলে র‌্যান্ক করবে।

Related posts