ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট ব্যাকআপ (Website Backup) রাখার নিয়ম

Website Backup

একটি ওয়েবসাইট ব্যাকআপ (Website Backup) রাখা অত্যন্ত জরুরী। কারন যে কোন সময়ে আপনার সাইট বিপদের সন্মুখিন হতে পারে। আপনার সাইট যে কোন সময়ে হ্যাক হতে পারে, বা কোন প্লাগিনের কারনে সাইট রান নাও হতে পারে, বা আপনার অনাকাঙ্খি কোন ভূলের কারনে সাইট বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তখন বিপদের সীমা থাকবে না। আপনার দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন নিমিষেই শেষ হয়ে যেতে পারে। শুধুমাত্র একটি ভূলের কারনে তা হচ্ছে সাইটের ব্যাকআপ না রাখা। আপনার সাইট ব্যাকআপ বিভিন্ন ভাবে নিতে পারেন। সি-প্যানেলের মাধ্যমে নিতে পারেন, এফটিপির মাধ্যমে নিতে পারেন, আবার প্লাগিনের মাধ্যমে নিতে পারেন। আজকে আমি আলোচনা করবো কিভাবে একটি ওয়েবসাইটকে প্লাগিনের মাধ্যমে ব্যাকআপ নিতে পারেন। প্লাগিনের মাধ্যমে সাইট ব্যাকআপ রাখা সহজ এবং সহজে রিষ্টোর করতে পারবেন।

ব্যাকআপ কি :

ব্যাকআপ হচ্ছে কোন ওয়েব সাইটের আর্টিকেল, ইমেজ বা চিত্র সংরক্ষন করে রাখার প্রক্রিয়া। অর্থাৎ কোন ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট কে নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর কোন স্থানে সুরক্ষিত করে রাখার প্রক্রিয়ায় হচ্ছে ব্যাকআপ রাখা। যাতে কোন সময় ওয়েবসাইট হ্যাক হলে বা রান না হলে তা পুন:রায় উদ্ধার করা যায়। একটি সাইটকে আশু বিপদের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে ব্যকআপ রাখা আবশ্যক। ব্যাকআপ রাখা থাকলে তা সহজে রিষ্টোর করার মাধ্যমে পুনরায় সচল করা সম্ভবপর হয়। নতুবা আপনার সাইট চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। একটি ওয়েবসাইটের মূল্য তখনই বুঝবেন যখন আপনার ওয়েবসাইট চিরতরে হরিয়ে যাবে। তাই সময় থাকতে আপনার ওয়েবসাইটের ব্যাকআপ (Website Backup) রাখুন।

ওয়েবসাইট ব্যাকআপ (Website Backup) রাখার নিয়ম :

ওয়েবসাইটে ব্যাকআপ বিভিন্ন ভাবে রাখা গেলেও আমি আপনাদের সামনে সহজ প্রক্রিয়ায় সাইট ব্যাকআপ রাখার নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করবো। কিভাবে একটি ওয়েবসাইটকে প্লাগিনের মাধ্যমে ব্যাকআপ রাখা যায় সে বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করবো। বিভিন্ন প্লাগিনের মাধ্যমে সাইট ব্যাকআপ রাখা যায়। যেমন : Wp vivid plugin, Updraft plus, Backwpup, Duplicator, All-in-one Wp migration ইত্যাদি । এই আর্টিকেলে Wp Vivid Plugin এর মাধ্যমে কিভাবে একটি ওয়েবসাইটকে ব্যাকআপ রাখা যায়, সে বিষয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। Wp vivid এর মাধ্যমে ব্যাকআপ নিয়ে অটোমেটিক ভাবে প্রতিদিন বা সপ্তাহে একবার বা মাসে একবার করে ব্যাকআপ নিতে পারবেন। আপনি ফ্রিতে ইচ্ছা মতো গুগুল ড্রাইভে বা সার্ভারে ব্যাকআপ রাখতে পারবেন।

প্রথমে আপনার ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ড লগইন করে নিন। তারপর মেনুবার থেকে প্লাগিনে ক্লিক করুন। তারপর Add New এ যান। সার্চ বারে wpvivid Backup লিখে সার্চ করুন। তখন একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন। তাতে লিখা রয়েছে Migration, Backup, Staging – WPvivid. এই প্লাগিনের কর্ণারের Install Now বাটনে ক্লিক করে ইনষ্টল করুন। তারপর Activate করুন। তখন আপনার মেনুবারে প্লাগিনটি যুক্ত হয়ে যাবে।

Vivid Plugin :

Vivid Plugin

এখন মেনু বারে Wp Vivid Backup এ ক্লিক করুন্। তখন উপরের মতো একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন। এখানে Backup Now বাটনে ক্লিক করলে আপনার সাইটের ব্যাকআপ নেওয়া হয়ে যাবে। কিন্তু তা করা যাবে না । কারন তাতে আপনার লোকাল হোস্ট স্টোরেজে সব গুলো ফাইল জমা হবে। তখন লোকাল হোস্ট ফাইল ভারি হয়ে যাবে। তাতে আপনার সাইটের সমস্য হয়ে যাবে। কারন প্রথম অবস্থায় আপনার জিবি কম থাকে। হয়তোবা 1 কিন্বা 2 জিবি হোস্ট থাকে। তাই লোকাল হোস্টে ফাইল গুলো জমা না করে গুগল ড্রাইভে জমা করতে হবে। তাতে আমাদের জিবি খরচা হবে না।

জিবি খরচা বাচতে হলে গুগল ড্রাইভে ফাইল গুলো জমা করতে হবে। গুগল ড্রাইভে ফাইল জমা করার নিয়ম হলো- প্রথমে Remote Storage ট্যাবে ক্লিক করতে হবে। তারপর নিচে একটি ইন্টারফেস দেখতে পাবেন। এখানে Google Drive সিলেক্ট করাই থাকবে। Antithetical with Google Drive ক্লিক করুন। তখন আপনাকে গুগলে সাইন আপ করতে বলবে। আপনি যে কোন একটি ইমেল সিলেক্ট করে Continue করুন। এবার Enter a unique aliases ঘরে যে কোন একটি নাম লিখুন এবং Add এ ক্লিক করুন। তারপর নিচের দিকে গিয়ে Save change ক্লিক করুন। আপনাকে সাকসেসফুল মেসেজ দেখাবে। এবার Backup and Restore ঘরে গিয়ে Backup Now বাটনে ক্লিক করুন। বাছ আপনার কাজ শেষ হয়ে গেল। কিছুক্ষন সময় ধরে আপনার ব্যাকআফ প্রসেস হতে থাকবে। এখন অটোমেটিক ভাবে আপনার সাইটের ব্যাকআপ হতে থাকবে। তবে সিডিউল থেকে প্রতিদিন বা সপ্তাহে বা মাসে কিভাবে ব্যাকআপ নিতে চান তা সেট করে দিয়ে সেভ চেন্জ করে দিন। বাছ আপনার ব্যাকআপের কাজ শেষ।

ব্যাকআপকৃত ফাইল রিষ্টোর করার নিয়ম :

ব্যাকআপ কৃত ফাইল রিষ্টোর করার প্রয়োজন পড়লে তবেই রিষ্টোর করবেন। অন্যথায় অযথা করতে যাবেন না। কারন রিষ্টোর করলে আগের ফাইল গুলো আর খুজে নাও পেতে পারেন। রিষ্টোর করার নিয়ম হলো – প্রথমে ব্যাকআপকৃত ফাইল গুলো ডাউনলোড করতে হবে। তারপর সে গুলোকে Extract করে জীপ ফাইল তৈরি করতে হবে। এই জীপ ফাইল Backup and Restore ট্যাপে ক্লিক করে Restore থেকে আপলোড করে দিতে হবে। বাছ আপনার কাজ শেষ হয়ে গেল।

এছাড়া Backup and Restore ট্যাবের নিচের দিকে কিছু দিন আগের ব্যাকআপ করা ফাইল জমা থাকে। সেখানে রিষ্টোরে ক্লিক করলেই সব ফাইল রিষ্টোর হয়ে যাবে। তবে এখানে উল্লেখ্য, যে কোন নির্দিষ্ট দিনের ফাইল রিষ্টোর করলে তার পরের দিনের ফাইল গুলো খোজে নাও পেতে পারেন। তাই একমাত্র নিতান্ত্যই প্রয়োজন ছাড়া কোন ফাইল রিস্টোর করতে যাবেন না।

শেষকথা :

পরিশেষে কথা হচ্ছে যে কোন ওয়েবসাইট ব্যাকআপ (Website Backup) নেওয়া অত্যাবশ্যক। কারন আপনার অনেক কাঙ্খিত তথ্য আপনার ওয়েবসাইটে থাকে। কেউ ব্লগিং করে থাকলে তার দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন লিপিবদ্ধ করা থাকে। কেউ ব্যবসা করলে তার প্রোডাক্ট রিলেটেড সকল তথ্য লিপিবদ্ধ থাকে। কোন প্রতিষ্ঠান হলে তার অনেক গুরুত্বপূর্ন ফাইল লিপিবদ্ধ থাকে। তাই সামান্য ভূলের কারনে আপনার দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন ধুলিষ্যাৎ হয়ে যেতে পারে। আমি বলবো আপনারা সকলেই আপনাদের ওয়েবসােইটের ব্যাকআপ রাখবেন। তা না হলে যে কোন সময়ে বিপদে পড়তে পারেন। এতক্ষন সংগে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

Related posts

2 Thoughts to “ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট ব্যাকআপ (Website Backup) রাখার নিয়ম”

  1. No matter if some one searches for his essential thing, thus he/she wishes to be available that
    in detail, so that thing is maintained over here.

Leave a Comment